প্যারাডাইস লস্ট : বুক ১-এর কাহিনী
কবিতার প্রারম্ভিক পংক্তিগুলিতে মিল্টন স্বর্গীয় মিউজ বা কবিতার দেবীকে আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তিনি তাকে জ্ঞান ও নির্দেশনা দেন। কারণ তিনি এমন একটি বিষয় নিয়ে লিখতে চলেছেন যা "গদ্য বা পদ্যে আগে কখনো লেখা হয়নি"।
এই মহাকাব্যের বিষয়বস্তু হলো মানুষের পতন, যা ঘটেছিল তার প্রথম অবাধ্যতার কারণে (নিষিদ্ধ বৃক্ষ অর্থাৎ ভালো-মন্দের জ্ঞানদানকারী বৃক্ষের ফল ভক্ষণের মাধ্যমে)।
এটি ছিল শয়তান, যে ঈশ্বরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে তার সঙ্গীদের নিয়ে নরকে বিতাড়িত হয়েছিল। সেই শয়তানই ইভকে ফলটি খেতে প্রলোভিত করেছিল এবং ইভ পরে অ্যাডামকে সেই কাজে রাজি করিয়েছিল।
এই কাজটি করার সময় প্রধান-শয়তান ঈশ্বরের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার নেশায় মত্ত ছিল।
নয় দিন ধরে শয়তান এবং তার বিদ্রোহী বাহিনী বিশৃঙ্খলার (Chaos) মধ্য দিয়ে নিচে পড়তে থাকল এবং অবশেষে নতুন সৃষ্ট নরকে আশ্রয় পেল। এটি একটি বিশাল, অন্ধকার কারাগার।
প্রবল বেগে নিচে পড়ার কারণে প্রথমে শয়তান এবং তার পতিত সঙ্গীরা নরকের জ্বলন্ত হ্রদে আচ্ছন্ন ও স্তব্ধ হয়ে পড়ে ছিল।
শয়তান সবার আগে চেতনা ফিরে পেল এবং তার অনুপ্রেরণামূলক কথা দিয়ে বেলজিলবাবকে ডাকল। বেলজিলবাব ছিল পদমর্যাদায় শয়তানের পরেই এবং সে তখনো সম্মোহিত অবস্থায় শয়তানের কাছেই পড়ে ছিল।
তারা নরকে তাদের এই শোচনীয় অবস্থা নিয়ে আলোচনা করল। এরপর তারা দুজন জ্বলন্ত হ্রদের তীরের কঠিন আগুনের ভূমিতে অবতরণ করল।
তারপর শয়তান তার বিশাল বাহিনীকে জাগিয়ে তুলল, যারা তখনো আগুনের হ্রদে অচেতন হয়ে পড়ে ছিল।
এক জ্বালাময়ী ভাষণে, যা "নরকের গভীর গহ্বর কাঁপিয়ে দিয়েছিল", সে তাদের জেগে ওঠার এবং আলস্য ঝেড়ে ফেলার আহ্বান জানাল।
পতিত দেবদূতরা তৎক্ষণাৎ ডানা মেলে উঠে দাঁড়াল এবং সংকেত মেনে আগুনের তীরে এসে সমবেত হলো। এরপর প্রধান দেবদূতদের নেতৃত্বে তাদের যুদ্ধের জন্য সারিবদ্ধভাবে সাজানো হলো।
শয়তান তাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিল এবং স্বর্গ পুনরুদ্ধারের আশা দেখিয়ে সান্ত্বনা দিল। সে বলল, শক্তির লড়াইয়ে তারা যা হারিয়েছে, তা ছলনা এবং কৌশলের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করবে।
সে তাদের একটি প্রাচীন গুজবের কথা মনে করিয়ে দিল যে, ঈশ্বর একটি নতুন ধরনের জীব সৃষ্টি করবেন। সে প্রস্তাব করল যে, তাদের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ সভা করা হোক।
সেই অনুযায়ী, সঙ্গীতের মূর্ছনার সাথে মাটি ফুঁড়ে উঠে এল একটি বিশাল সভাগৃহ, যার নাম 'প্যান্ডেমোনিয়াম'। এর নির্মাতা ছিলেন স্বর্গের বিখ্যাত স্থপতি মালসিবার।
ঘোষকরা ঘোষণা করল যে শীঘ্রই সেখানে সভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর দেবদূতরা মৌমাছির ঝাঁকের মতো সেই সভাগৃহে ভিড় করল।
জায়গা সংকুলান করার জন্য তারা নিজেদের আকার ছোট করে নিল। প্রধান সর্দাররা ভেতরে গোপন বৈঠকে বসল। কিছুক্ষণ বিরতির পর নরকের সঙ্গীদের মহাসম্মেলন শুরু হলো।
Comments
Post a Comment