Bengali Meaning of Petals of Blood

Bengali Meaning of Petals of Blood

১. উপন্যাসের শুরু ও মুনিরার ইলমোরগে আগমন "বইটি শুরু হচ্ছে চারজন প্রধান চরিত্র—মুনিরা, কারেগা, ওঞ্জা এবং আব্দুল্লাহকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে। কাহিনী শুরু হয় তিনজন প্রভাবশালী কেনীয় ব্যক্তি (দুইজন ব্যবসায়ী ও একজন শিক্ষাবিদ) আগুনে পুড়ে মারা যাওয়ার ঠিক পরবর্তী সময়ে। এরপর ফ্ল্যাশব্যাকে দেখানো হয় মুনিরা যখন শিক্ষক হিসেবে ইলমোরগ গ্রামে যোগ দিতে আসেন। গ্রামবাসীরা প্রথমে তাকে সন্দেহ করত এবং ক্লাসে উপস্থিতিও ছিল কম, কারণ তারা ভেবেছিল আগের শিক্ষকদের মতো মুনিরাও অল্প দিনেই গ্রাম ছেড়ে পালাবে। কিন্তু মুনিরা সেখানেই থেকে যান এবং আব্দুল্লাহ নামের এক দোকানদারের সাথে তার বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।" 

 ২. ওঞ্জা ও কারেগার প্রবেশ এবং ইলমোরগের দুর্দশা "এরপর ওঞ্জা গ্রামে আসে, যে ছিল গ্রামের সবচেয়ে বয়স্ক ও শ্রদ্ধেয় মহিলার নাতনি। সে ছিল একজন আকর্ষণীয় ও অভিজ্ঞ বারমেইড। মুনিরা বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও ওঞ্জার প্রেমে পড়ে। ওঞ্জা আব্দুল্লাহর দোকানে কাজ নিয়ে সেটিকে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলে। অন্যদিকে কারেগা গ্রামে আসে মুনিরার সাথে তার পুরনো স্কুল 'সিরিয়ানা' নিয়ে কথা বলতে। মুনিরার সাথে সম্পর্কের পর ওঞ্জা হতাশ হয়ে গ্রাম ছেড়ে চলে যায়। এরপর ইলমোরগে চরম খরা দেখা দেয়, ফসল হয় না। পরিস্থিতির পরিবর্তনের আশায় কারেগার অনুপ্রেরণায় গ্রামবাসীরা তাদের এমপির (MP) কাছে দাবি জানাতে নাইরোবি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।" 

 ৩. নাইরোবি যাত্রা ও আইনজীবীর ভূমিকা "এই যাত্রা ছিল অত্যন্ত কষ্টের। আব্দুল্লাহর পোষ্য শিশু জোসেফ অসুস্থ হয়ে পড়ে। নাইরোবিতে গিয়ে তারা কোনো সাহায্য পায়নি; বরং তাদের ভিক্ষুক ভেবে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। উল্টো কিমেরিয়া নামে এক নিষ্ঠুর ব্যবসায়ী তাদের জেরা করে, যে কি না আবার স্থানীয় এমপির ঘনিষ্ঠ। কিমেরিয়া ওঞ্জাকে ব্ল্যাকমেইল করে এবং ধর্ষণ করে। গ্রামবাসীরা বুঝতে পারে এমপি তাদের সাহায্য করবে না, কারণ সে একজন শোষক। তবে তারা একজন আইনজীবীর দেখা পায়, যিনি গ্রামবাসীদের পাশে দাঁড়ান এবং মামলা করে ইলমোরগের দুর্দশার কথা জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরেন। এর ফলে গ্রামে বাইরের সাহায্য আসতে শুরু করে।"

 ৪. বৃষ্টি, অতীতের স্মৃতি ও ঈর্ষা "অবশেষে বৃষ্টি আসে এবং গ্রামবাসীরা প্রাচীন উৎসব করে। কারেগা সেই আইনজীবীর সাথে চিঠিপত্রের মাধ্যমে যোগাযোগ রেখে নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। উৎসবের সময় 'থাঙ্গেটা' নামের এক পানীয় পান করে সবাই আনন্দ করে। কারেগা মুনিরাকে তার পুরনো প্রেমের গল্প বলে, যার নাম ছিল মুকামী। মুকামীর বাবা কারেগার ভাইয়ের মাউ মাউ (Mau Mau) আন্দোলনে সম্পৃক্ততার কারণে এই সম্পর্ক মানেননি। পরে মুকামী আত্মহত্যা করেছিল। মুনিরা এই প্রথম এই ঘটনা জানল। গ্রামে একটি বিমান দুর্ঘটনা ঘটে এবং ওঞ্জা ও আব্দুল্লাহর ব্যবসায় 'থাঙ্গেটা' বিক্রি বাড়তে থাকে। কিন্তু কারেগার সাথে পরিবারের সম্পর্ক ও ওঞ্জার সাথে সম্পর্কের জন্য ঈর্ষান্বিত হয়ে মুনিরা কারেগাকে স্কুল থেকে বরখাস্ত করায়। কারেগা গ্রাম ছেড়ে চলে যায়।" 

 ৫. আধুনিকায়ন ও পরিণতি "সরকার ইলমোরগের ভেতর দিয়ে রাস্তা তৈরির প্রকল্প হাতে নিলে গ্রামে ব্যাপক বাণিজ্যিক পরিবর্তন আসে। কৃষকদের জমি বন্ধক রেখে ঋণ নিতে বাধ্য করা হয়। নিআকিনিউয়া (গ্রামের বয়স্ক মহিলা) মারা গেলে ব্যাংক তার জমি দখল করতে চায়। ওঞ্জা তার জমানো সব টাকা দিয়ে সেই জমি কিনে নেয় এবং সেখানে একটি পতিতালয় খোলে। মুনিরা ওঞ্জার সাথে পুরনো সম্পর্ক ঝালাই করতে গিয়ে প্রত্যাখ্যানের শিকার হয় এবং অর্থ দেয়। কারেগাও ওঞ্জার সাথে দেখা করতে আসে কিন্তু মতের অমিল হওয়ায় চলে যায়। ওঞ্জা তার সব পতিতা বন্ধুদের বিদায় দিয়ে আব্দুল্লাহর সাথে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখেছিল। মুনিরা ঈর্ষার বশবর্তী হয়ে পতিতালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। ওঞ্জা বেঁচে গেলেও বাকি পুরুষরা মারা যায়। মুনিরার কারাদণ্ড হয়। শেষে জানা যায়, শোষক এমপি নাইরোবিতে নিজ গাড়িতে খুন হয়েছেন।"

Comments